মাজার পাকে চুম্বন কী জায়েজ ❓

 রওজা বা মাজার শরীফ ফয়েজ ও বরকতের উদ্দেশে স্পর্শ করে শরীরে মোচন করা বা চুমু দেয়া জায়েজ।

=====================

বোখারী শরীফের ব্যাখ্যা গ্রন্থ “ফতুহুল বারী” ৬ষ্ঠ খন্ড ১৫ পৃষ্ঠার সূত্রে “আহকামুল মাজার” কিতাবের ৫৫ পৃষ্ঠায় বণির্ত আছে যে, নবী করিম (সাঃ) এর মিম্বর শরীফ ও রওজা মোবারক চুম্বন করার বৈধতা সম্পর্কে ইমাম আহমদ

ইবনে হাম্বল (রাহঃ) কে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রশ্নোত্তরে বলেনঃ

কিছু দেখছিনা।’ অর্থাৎ চুম্বন করা জায়েজ।

হাফেজ আল ইরাকী “ফাতুহুল মোতআল” কিতাবে তার সনদ সূত্রে বর্ননা করেছেন যে, ‘ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রাহঃ)

মহানবী (সাঃ) ও অন্যান্যদের রওজা ও মাজার চুম্বন করা জায়েজ বলেছেন।’

বিখ্যাত “তুশেখ” কিতাবে আল্লামা জালাল উদ্দীন সয়ুতী (রাহঃ) বলেছেনঃ ‘হাজর আসওয়াদের চুম্বন থেকে কতেক

আরেফীন বুযুর্গানে কিরামের মাজার শরীফে চুমু দেয়ার বৈধতা প্রমাণ করেছেন।’

ইবনুল জাওযীর “মাসীর আল গারাম” সূত্রে “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের দলিল” কিতাবের ৯৪ পৃষ্ঠায় এবং তফসীরে কানজুল ঈমান ও খাজাইনুল ইরফানের প্রথম খন্ডের ১৭৪ পৃষ্ঠায়

বর্ণিত আছে যে, মুহাম্মদ বিন হারব আল হেলালী বলেনঃ আমি মহানবী (সা এর রওজা শরীফের নিকট এসে তার জিয়ারত

করলাম এবং তার বরাবর বসে পড়লাম। এ সময় একজন গ্রাম্য লোক এসে রওজা শরীফের উপর আছড়ে পড়ল এবং রওজার কিছু মাটি মাথায় রাখল এবং বলতে লাগল, ইয়া রাছুলুল্লাহ (সাঃ)!

আপনি বলেছেন, আর আমরা আপনার কথা শুনেছি। আপনি আল্লাহ থেকে বুঝে নিয়েছেন, আর আমরা আপনার থেকে বুঝে নিয়েছি। আপনার উপর নাযিল হয়েছিলঃ “এবং যদি কখনো তারা ন নফসের প্রতি জুলুম করে তখন, হে মাহবুব!

(তারা) আপনার দরবারে হাজির হয় এবং অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর রাছুল তাদের জন্য সুপারিশ করেন, তবে অবশ্যই আল্লাহকে অত্যন্ত তওবা কবুলকারী পাবে।” [সূরা নিসা, আয়াতঃ৬৪]

এখন আমি নিজের উপর জুলুম করেছি, আর আপনার কাছে আসলাম; আমার জন্য একটু ক্ষমা চান। তখন রওজা থেকে আওয়াজ এল তোমাকে মাফ করে দেওয়া হয়েছে।

বিখ্যাত কিতাব “জজবুল কুলুব ইলা দিয়ারিল মাহবুব” এবং ইমাম তকিউদ্দিন সুবকীর “সিফাউস সিকাম” কিতাবে বর্ণিত আছে, রাছুল (সাঃ) ইনতেকালের পর হযরত বেলাল (রাঃ) শোকে মদীনা ছেড়ে সিরিয়া চলে এবং জেহাদে অংশ গ্রহন করে জীবন অতিবাহিত করতে থাকেন। তিনি একদিন স্বপ্নে নবীজি (সাঃ) কে দেখলেন।নবীজি (সাঃ) বেলালকে বলেছেনঃ হে বেলাল (রাঃ) তুমি আমাকে ছেড়ে কিভাবে দূরে থ এ স্বপ্ন দেখে হযরত বেলাল (রাঃ) তৎক্ষনাৎ মদীনার পানে রওনা হলেন

জিয়ারতের উদ্দেশ্যে। তিনি মদীনায় পৌছার সাথে সাথে খবর ছড়িয়ে পড়ল যে, হযরত বেলাল (রাঃ) মদীনায় ফিরে এসেছে। ইমামা হাসান (রাঃ) ও ইমাম হুসাইন (রাঃ) দৌড়ে আসলে


ন।

হযরত বেলাল (রাঃ) সোজা রওজা মোবারকে গিয়ে কান্ ভেঙ্গে পড়লেন এবং রওজা মোবারকে কপাল ঘষতে লাগলেন।

“আদিল্লাতু আহলিচ্ছুন্নাহ”

কিতাবে বর্ণিত আছে যে, ‘হযরত মা ফাতেমাতুজ্জাহরা (রাঃ) আপন দু’গন্ড (গাল) নবী করিম (সাঃ) এর রওজা মোবারকের উপর স্থাপন করতেন। কোন সাহাবীই নিষেধ করেননি।’ খতিব ইবনে জামালার সূত্রে “প্রশ্নোত্তরে আকাঈদ শিক্ষা” বইয়ের ৫৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে যে,

‘আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) আপন ডান হাত নবী করিম (সাঃ) এর রওজা মোবারকে স্থাপন করতেন বরকত ও ছোয়াবের উদ্দেশ্যে।’

“হৃদয় তীর্থ মদীনার পথে” কিতাবের ১৫৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে, আবু সাঈদ আস- সামআনী ও মাওলা আলী (রাঃ) হতে বর্ননা করেছেন। মারওয়ান ইবনে হাকাম এক

ব্যক্তিকে রওজা শরীফের উপর মুখমন্ডল রাখতে দেখে তার ঘাড় ধরে বললোঃ তুমি যে কাজটি করছ, তা কেমন জান?

লোকটি বললঃ খবরদার আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আমার মুখমন্ডল কোন পাথরের উপর রাখিনি; বরং মোহাম্মদ (সাঃ) এর রওজার মাটির উপর রেখেছি। সে আরো বললঃ আমি রাছূল (সাঃ) হতে শুনেছি যে, দ্বীনের জন্য তখন ক্রন্দন করা উচিত, যখন শাসন ক্ষমতা অযোগ্য লোকের হাতে চলে যায়।


Comments

Popular posts from this blog

ইউসুফে ছানি গাউছুল আজম ছৈয়দ গোলামুর রহমান বাবাজান কেবলা রহঃ জীবনী দর্পণ।

ছেমা ই দালালাত

ইসলামে ধ্যান-মোরাকাবা